মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল! - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হওয়ার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করেন।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী হতে দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

 

এরপরও সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

 

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সজ্জন ও তুলনামূলকভাবে সংযত রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এ দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক হবে।

 

তবে দলীয় সূত্রের তথ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনা এবং মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

 

তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

 

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

 

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত খুবই সীমিত।

 

সূত্র : এশিয়া পোস্ট


মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম বরদাশত করেননি। এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।

 

এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে তৎপরতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। গত রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

 

দলীয় সূত্রে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। সোমবার (১০ আগস্ট) জোটের একটি প্রতিনিধিদল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

 

পরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।

 

ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট নেওয়া হবে।

 

এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকও হয়েছে।

সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্টিফেন কারপিন।

 

এসময় তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের গতি বাড়াতে, পেমেন্ট নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে করণীয় নিয়ে আলাপ করেন।

 

এর আগে তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

 

আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি আমাদের অভিযোগ। এই দায় ভারত এড়াতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে যদি তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা চালান, তাহলে সেটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার কুশীলবদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো বিচার চলমান। কিন্তু শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, তাদের জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুও ছিল। আকাশ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এটাই আমাদের প্রশ্ন।

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়—আমরাও চাই। আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে, তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। এরপরও তিনি ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।

 

সালাহউদ্দিন বলেন, নিউটনের আপেল যেমন গাছ থেকে পড়ে, তেমনি গণঅভ্যুত্থান কোনো নিয়ন্ত্রণের আড়ালে পড়ে যায়নি। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে। এটি ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই আন্দোলন আমাদের অর্জন করে দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।

 

তিনি বলেন, আমরা ছাত্র বন্ধুদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করি না। যারা সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে—কৃতিত্ব তাদের আছে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ছিল।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হোক। সেই বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতা হোক। আমাদের পরিকল্পনা আছে, কর্মসূচি আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।

আ.লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দেওয়া ও অপরিকল্পিত নানা কর্মকাণ্ডের ফলে এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’

 

তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’

 

শিক্ষকদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’

 

প্রথাগত রাজনীতির বাহিরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দরকার বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’

 

চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির বিষয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, বরং জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।

 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাননি। এ কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা এখনও যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি, সেগুলো এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে এবং সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে ও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।শুক্রবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সৈনিক জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সম-অধিকার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

 

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে- কীভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কী ছিল। তারা যেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

 

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম জুয়েল জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাজতি আসামি বাংলাদেশ চলচিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় ও নামকরা খলনায়ক। এই মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। আসামিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসামি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিল না। এজন্য তার জামিন পাওয়া একান্ত আবশ্যক।

 

গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

 

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

 

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন নামঞ্জুর

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী ও এক গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপস্থিত দু-একজন অবশ্য বলেছেন খুন হওয়া মেয়েটি গৃহকর্মী নয় আবদুস সাত্তারের নিজের মেয়ে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ১১১ নম্বর বাসায় রক্তাক্ত লাশগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এ ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে লক খুলেছেন। তবে বাথরুমের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় খুন করে এই বাথরুমে হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে যায়।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালের দিকে কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মিতালি আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।

নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের গলা কাটা লাশ, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের পরিবার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেন।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। হাসিনা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম বরদাশত করেননি। এখন সে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

 

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম জোরালো হওয়ার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল। অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং অভিনন্দন জানানোর চেষ্টা করেন।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে মির্জা ফখরুলকে খুব বেশি উৎসাহী হতে দেখা যায়নি। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক, তারপর।’

 

এরপরও সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

দলীয় সূত্রের খবর, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

 

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

 

দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

 

দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

সজ্জন ও তুলনামূলকভাবে সংযত রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

 

তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এ দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা আলোচনা ও বৈঠক হবে।

 

তবে দলীয় সূত্রের তথ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনা এবং মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তার নামই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।

 

তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

 

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

 

এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ কার্যত খুবই সীমিত।

 

সূত্র : এশিয়া পোস্ট

মন্ত্রী পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল!

নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন পথচলায় তাদের উৎসাহিত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে ‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

 

নবীনবরণ উপলক্ষে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে নবীন শিক্ষার্থীরা গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া সঙ্গীত দল ‘কোরাস’ গান পরিবেশন করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন, অংকুর কর্মকার ও জয়িতা চাকমাও সংগীত পরিবেশন করেন।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খিজির আল সিফাত, সুমাইয়া আবেদীন ঋতিকা ও এনা। শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ছাত্রনেতা রিদি জাফরাত। তিনি নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

আয়োজকরা বলেন, নবীনদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরোনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘মিছিলে নতুন মুখ’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মনুষ্যত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

বক্তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চার বিকাশ এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি দেশ, জাতি, রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় সংকটের দিকে নজর রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্ষরিক অর্থ অর্থাৎ বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

 

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বি সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আহমেদও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসিব।

 

ইভান তাহসিব বলেন, “আপনারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দেশের একজন নাগরিক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়েও কথা বলা জরুরি।”

 

অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

জবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে ‘মিছিলে নতুন মুখ’ শীর্ষক নবীনবরণ

বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ

 

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সাভারের আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের একজন মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে গ্রেপ্তারে সাভারে অভিযান চলছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। ভবনটির ভেতর বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন আরিফ। অপরজন মূলহোতা বোমারু মামুন।

 

সিটিটিসি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু হয়। এ সময় মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও ভবনটির কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি। আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

সাভার মডেল থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় পুলিশকে অভিযানের কারণ আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে অভিযানে সহায়তা করতে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সিটিটিসি বিস্তারিত জানাবে।

 

সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়িটিতে তালা দেওয়া ছিল। সিটিটিসি সদস্যরা ভেতরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযানে সিটিটিসি ও স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

 

ওসি বলেন, বাড়িটি চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে বাড়ি থেকে জেএমবির কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পরে রাত ১২টার দিকে ওসি জানান, আটক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও নয়টি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।

 

রাত ১২টার দিকে একটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। অভিযানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবন থেকে উদ্ধার করা পাইপ বোমার মূল উপাদান হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড।

 

এসব ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক।

বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলে সমকামিতার অভিযোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ। এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

বিবৃতিতে হল সংসদের জিএস জানান, শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০২৫–২৬ সেশনের দুইজন আবাসিক ছাত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের (সমকামিতা) প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় উভয়কে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করা যায়।

 

এই ব্যাপারে প্রথম অভিযোগ আসলে অভিযোগকারী ছাত্রের পক্ষে আদিষ্ট হয়ে প্রশাসন বরাবর শাস্তির আবেদন করেন হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন হয় এবং ঘটনার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার ফলে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়।

 

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—আফিফ হাসান নীরব ও আরিফুল হক শুভ। আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। আরিফুল হক শুভ মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা।

ঢাবিতে ফের সমকামিতার অভিযোগ, দুই ছাত্রকে হল থেকে বহিষ্কার

চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে. এম. চঞ্চলের নেতৃত্বে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম ও সাগর খানসহ অন্তত আটজন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদা তোলার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এতে বাধা দেন। খবর পেয়ে কে. এম. চঞ্চল ৪০-৫০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় তারা প্রথমে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের গালাগালি করেন। পরে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

 

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হামলার শিকার সুমন সিকদার বলেন, ‘বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নিউমার্কেট এলাকায় কয়েকজনকে দোকানদার ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে দেখা যায়। এতে বাধা দিলে তারা প্রথমে আমাদের সঙ্গে গালাগালি ও বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এর ১০–১৫ মিনিট পর নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জন লাঠিসোঁটা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমরা ১০–১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছি। আহতদের মধ্যে ৮–১০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দুজন পপুলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আত্মরক্ষার সময় আমার ডান হাতে কোপ লাগে।’

 

হামলার পর ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে তারা কলেজের সামনের মিরপুর সড়কে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

 

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, নিউমার্কেট এলাকার প্রায় ৩৫০টির বেশি দোকান থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ জন্য কে. এম. চঞ্চলের একটি বাহিনী রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে বাধা দিলে তার ওপর হামলা করা হয়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ওসি মোহসিন উদ্দিন আতিক বলেন, ‘ওদের মধ্যে মারামারি হয়েছে সে বিষয়ে অবগত আছি কিন্তু কতজন আহত হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলায় আহত ৮

নীলফামারী বড় মাঠে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারী বড় মাঠ দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার

(১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ তানজীর ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বড় মাঠের অবৈধ দোকানদারদের দোকান সরিয়ে নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশের পর কিছু দোকানদার দোকান সরিয়ে চলে যান। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম শাহ্ আরেফিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু মোহাম্মদ সোয়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নীলফামারী বড় মাঠের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য মাঠের পরিসর কমে গেছে। খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ সুবিধা বাড়াতেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজীর ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে এসে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলছি। কিছু দোকান তাৎক্ষণিকভাবে উঠেও গেছে। কিছু স্থায়ী দোকান ছিল, সেগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় উঠে না গেলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো উচ্ছেদ করবো।’

নীলফামারী বড় মাঠে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান 

আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে। শ্রী অর্ণব কুমার হিরা

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শ্রী অর্ণব কুমার হিরা, তিনি আরো বলেন,

বিএনপি বরাবরই উদারতার উদাহরণ দেখাতে গিয়ে খাল কেটে কুমির এনেছে ১৯৭৯ জামায়াতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর মধ্যে দিয়ে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয় জিয়াউর রহমান এবং ১৯৮৫ সালের ১৭ এপ্রিল শেখের বেটি হাসিনা কে এনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটায় জিয়ার রহমান তার ফল ঠিক ১৭ দিন পর পান বিএনপি ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান এর হত্যার মধ্য দিয়ে,

,কাজেই বিএনপি কে বলছি এতো উদার হবেন না খাল কেটে কুমির আনবেন না দ্বিতীয় বার,

আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে। শ্রী অর্ণব কুমার হিরা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d